বেগুনি মচমচে করার উপায় - মচমচে বেগুনি বানাতে কি কি লাগে?
এই রমজান মাসে আপনি কি মচমচে বেগুনি তৈরি করতে চান?? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন যদি এই রমজান মাসে আপনি মত মাকে বেগুনি তৈরি করতে চান তাহলে এই পোস্টটি দেখুন। বাসায় বেগুনি মচমচে করার উপায় এবং মচমচে বেগুনি বানাতে কি কি লাগে সেই সকল বিষয়ে এই পোস্টটি শেয়ার করব।
একদম দোকানের মতো পারফেক্ট সুস্বাদু মচমচে বেগুনি এখন বাসাতেই তৈরি করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে জানতে হবে বেগুনি বানাতে কি কি লাগে এবং বেগুনি মচমচে করার উপায় কি?? এই রেসিপি অনুসারে বেগুনি তৈরি করলে আপনার বেগুনি হবে তিন থেকে চার ঘন্টা পর্যন্ত একদম মচমচের দোকানের মত।
বেগুনি মচমচে করার উপায়
অনেকেই গুগলে কিংবা ইউটিউবে সার্চ দেন যেগুলি মচমচে করার উপায় কি?? বেগুনের মধ্যে কি কি উপাদান দিলে বেগুনি খুব মচমচে হবে?? অনেকের মনে এই প্রশ্ন দেখা যায় যে বেগুনি মচমচে করার উপায় কি?? আজকের রেসিপি অনুসরণ করতে হবে।
আজকের রেসিপি অনুসরণ করলে আপনি গ্যারান্টি সহ মচমচে বেগুনি তৈরি করতে পারবেন চা খেয়ে বাসার লোকজন আপনার সুনাম করতে বাধ্য হবে। আপনারা অনেকেই বাসায় চেষ্টা করেন বাসাতে মচমচে বেগুনি তৈরি করার। কিন্তু বাসায় বেগুনি তৈরি করলে সে বেগুনি মচমচে হয় না আবার বেগুনো তৈরি করার 10 থেকে 15 মিনিটের মধ্যে বেগুনিগুলো চুপসে যায়।
এর কারণ কি?? আজকে রেসিপি দেখে নিন তাহলে আশা করি আর কখনো আপনার বেগুনি চুপসে যাবে না বেগুনি হবে মচমচে দোকানের মত। বেগুনি তৈরি করার জন্য প্রথমে দেখে নিন বেগুনি বানাতে কি কি লাগে?? যে সকল উপকরণ গুলো ব্যবহার করলে আপনার বেগুনি দোকানের মত মদ মতামত হবে সেগুলো দেখুন নিচে দেয়া রয়েছে।
বেগুনি বানাতে কি কি লাগে
সাধারণত বেগুনি বাড়াতে আমরা জানি লবণ বেসন এবং বেগুন প্রয়োজন। কিন্তু দোকানের মত মচমচে বেগুনি তৈরি করতে হলে এর পাশাপাশি আরো কিছু উপাদান প্রয়োজন হবে। বেগুনি মাঝেমাঝে করতে এবং লাল সুন্দর রং নিয়ে আসতে কি কি উপাদান লাগবে নিচে দেখে নিন।
বেগুন
বেকিং সোডা অথবা বেকিং পাউডার
ময়দা
কনফ্লাওয়ার
লবণ
বেসন
মরিচ গুড়া
হলুদ গুড়া
ভিনেগার
জিরা গুড়া
বেগুনি বানানোর জন্য আপনাকে বেগুন স্লাইস করে রাখতে হবে। অতিরিক্ত মোটা কিংবা অতিরিক্ত পাতলা করা যাবে না মাঝারি সাইজের বেগুন কাটতে হবে। আপনি চাইলে ছোট কিংবা বড় করে বেগুন কেটে নিতে পারেন এটি সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে আপনি কেমন বেগুনি খেতে চাইছেন।
ওপরের এই উপাদানগুলো যদি আপনার বাসায় থাকে তাহলে এখনই আপনি বানিয়ে নিতে পারবেন বাসায় যে মাছের বেগুনী। বিশ্বাস করুন আপনি যদি নিচের রেসিপি অনুসারে বেগুনি তৈরি করেন তাহলে আপনার বেগুনি দোকানে থেকেও বেশি সুস্বাদু হবে।
বেগুনি মচমচে করার উপায়
ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন দেখুন মাঝেমাঝে ভাবে তৈরি করার জন্য কি কি উপাদান প্রয়োজন এবার প্রত্যেকটি উপাদান সামনে রাখুন। বেগুন মাঝারি সাইজ করে স্লাইস করুন। এবার পাশে একটি পাত্র রাখুন পাত্রর মধ্যে কিছু কর্নফ্লাওয়ার নিন এবং লবণ নিন।
হালকা করে লবণ মিশিয়ে নিতে হবে কর্ণ ফ্লাওয়ার এর মধ্যে। তারপর বেগুনের স্লাইস গুলোকে এই কর্নফ্লাওয়ার এর মধ্যে মাখিয়ে নিন যেন বেগুনের গায়ে কোন পানি না থাকে। তারপর একটি বড় পাত্র নিন বড় পাত্র এর মধ্যে এক কাপ পরিমাণ বেসন নিতে হবে।
তারপর এক টেবিল স্পুন চালের গুঁড়ো এবং এক টেবিল স্পুন কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিন। তারপর প্রয়োজনমতো লবণ দিয়ে নিন। তারপর একটি চামচের সাহায্যে খুব সুন্দরভাবে উপকরণগুলো মিশিয়ে নিন। এবার ধীরে ধীরে পানি ঢালতে থাকুন।
একসাথে পানি ঢেলে দেবেন না এতে ব্যাটার বেশি পাতলা হয়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে পানি ঢালুন এবং নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত ব্যাটারটি ক্রিম এর মত হয়ে আসছে। আর হ্যাঁ উপকরণগুলো ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চালনির সাহায্যে চেলে নিতে হবে।
এবার মিশ্রণটি যদি খুব সুন্দর ক্রিমের মতো হয়ে আসে তখন এর মধ্যে প্রয়োজন মত এক চা চামচ জিরা গুঁড়ো এক চা চামচ মরিচ গুঁড়ো এবং হাফ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কি খুব সুন্দর ভাবে চামচের সাহায্যে নাড়াতে শুরু করুন দেখুন এর রং হলুদ থেকে হালকা ঘিয়া ঘিয়া হয়ে আসবে।
এবার এই মিশ্রণের মধ্যে হাফ চা চামচ বেকিং পাউডার কিংবা বেকিং সোডা দিয়ে দিন। তারপর খুব সামান্য পরিমাণ ভিনেগার দিন। ভিনেগার এর পরিমাণ খুব কম দিতে হবে না হয় এর সাধ কিছুটা টক প্রকৃতির হয়ে যাবে।
এই অবস্থায় এর মধ্যে বেগুন এর স্লাইস গুলোর ডুবিয়ে দিন। এবার খুব সুন্দর ভাবে বেগুনের গায়ে যদি মিশ্রনটি লেগে যায় তারপর তেলের মধ্যে বেগুনগুলো ছেড়ে দিন। অবশ্যই তেলকে আগে গরম করে নিতে হবে। তেলকে খুব সুন্দর ভাবে গরম করে নেয়ার পর তার মধ্যে বেগুন দিতে হবে।
যদি আপনি বেগুনির রং খুব সুন্দর আনতে চান দোকানের মত লাল টকটকে কিংবা কমলা রং আনতে চান তাহলে এর মধ্যে আপনি ফুড কলার ব্যবহার করতে পারেন। রেডম্যান এর কমলা কালারটি ব্যবহার করুন এক থেকে দুই ফোটা রেডম্যান এর কমলা কালার দিলে বেগুনি রং খুব সুন্দর হবে।
ওপরের রেসিপি অনুসরণ করে বেগুনি তৈরি করলে আপনার বেগুনি একদম পারফেক্ট হবে এবং যেহেতু ভিনেগার ব্যবহার করেছেন এজন্য আপনার বেগুনি তিন থেকে চার ঘন্টা কিংবা ৫ ঘন্টা রেখে দিলেও সেই বেগুনি আর নরম হবে না। আর বেগুনি এর মধ্যে কর্নফ্লাওয়ার দেওয়ার কারনে বেগুনি খুব মচমচে হবে।
খেতে খুব সুস্বাদু লাগবে বাসায় তৈরি ঝটপট এই বেগুনি দোকানের থেকেও বেশি সুস্বাদু হবে। আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন বেগুনি মচমচে করার উপায় কি এবার তুলুন আমরা দেখে আসি দোকানের বেগুনি খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর??
দোকানের বেগুনি খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর?
আমরা তো রমজান মাসে দোকান থেকে বেগুনি কিনে আনী। রমজান মাসে প্রত্যেকটি দোকান দোকানে বেগুনি আলু ভাজা আলুর চপ ডিমের চপ মরিচের চপ ধনিয়া পাতার চপ সহ আরো অন্যান্য চপ পাওয়া যায় সাথে বুট মাখা পাওয়া যায় এবং নিমকি সহ আরো বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়।
তবে এইখানে বেগুনি এবং আলুর চাপ কতটুকু স্বাস্থ্যকর?? আপনারা কি জানেন দোকানের বেগুনিতে কি কি উপাদান ব্যবহার করা হয়?? দোকানের বেগুনিতে কিন্তু অস্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করা হয় এর পাশাপাশি পুরানো অনেক দিনের বেসন ব্যবহার করা হয় সাথে বেগুনের মধ্যে একটি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়।পর্যন্ত টাটকা রাখতে মচমচে রাখতে সাহায্য করে।
যেহেতু দোকানদাররা বেগুনিগুলোকে সারাদিন ধরা বিক্রি করে যদি বেগুনি এর মধ্যে নরম হয়ে যায় তাহলে কিন্তু ক্রেতারা ক্রয় করতে চাইবে না এর জন্য দোকানদাররা এই বেগুনি এর মধ্যে একটি অস্বাস্থ্যকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে যা খাবারে ব্যবহার করা একদম উচিত নয়।
কেমিক্যাল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর এই কেমিক্যাল এর নাম হচ্ছে Na2 S2O4। এটি একটি কেমিকাল যা খাবারে ব্যবহার করা একদম উচিত নয় খাবারে এই কেমিক্যাল ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় খাবারটি সংরক্ষণ করা যায় এবং এই খাবারটি নষ্ট হয় না আর নরম হয় না কিন্তু এই কেমিকালটি মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
এই কেমিক্যাল টি আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পরে আমাদের লিভার এবং কিডনির ক্ষতি করে পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরের চর্বি জমা করে। তাই কখনোই দোকানের তৈরি বেগুনি কিংবা আলুর চপ করায় করবেন না এগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
সারাদিন রোজা থাকার পরে যদি আপনি ইফতারিতে এরকম অস্বচ্ছর খাবার গ্রহণ করেন তাহলে এটি আপনার শরীরে ভিন্ন ভিন্ন রোগ সৃষ্টি করবে যেমন একটি মরণব্যাধিক হচ্ছে ক্যান্সার। আশাকরি সকলেই বুঝতে পেরেছেন দোকানের বেগুনি খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর??
লেখকের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করলাম বেগুনি মচমচে করার উপায় কি বেগুনি বানাতে কি কি লাগে আর দোকানের বেগুনি খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর?? আশা করি আজকের এই পোস্টটির মাধ্যমে সকলেই বুঝতে পেরেছেন দোকানের বেগুনি খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর আশা করি আপনারা আর কখনোই দোকানের বেগুনি খাবেন না।
সাথে এ পোস্টটি শেয়ার করলাম আমরা বেগুনি বানাতে কি কি লাগে?? আপনার বাসায় যদি উপরের উপকরণগুলো থেকে থাকে তাহলে দ্রুত বাসায় বেগুনি তৈরি করুন এবং বাসায় তৈরি মচমচে বেগুনি উপভোগ করুন বাসায় তৈরি এই মচমচে বেগুনিগুলো খেতে খুবই সুস্বাদু হয় আপনি যত ইচ্ছা তত খেতে পারবেন এতে কোনো ক্ষতি হবে না এই বেগুনিগুলোর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। দোকানের বেগুনিগুলোতে কেমিক্যাল পিছনে থাকে যদি দোকানে বেগুনিতে কেমিক্যাল না মেশায় তাহলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দোকানদার সেই বেগুনিগুলোকে সংরক্ষণ করতে পারবেনা। তারাও তাদের স্বার্থের জন্য বেগুনিগুলোর মধ্যে কেমিক্যাল মিশে থাকে কিন্তু এই কেমিক্যাল যুদ্ধ বেগুনিগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় তাই আমাদেরকে আমাদের ভালো বুঝতে হবে এবং দোকানের বেগুনিগুলো আলুর চপ গুলোকে বাদ দিতে হবে।

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।
comment url